, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রংপুর জেলা বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি রংপুর নগরীর ঠিাকাদার পাড়ায় ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের জায়গা নিয়ে ক্ষোভ, সম্প্রীতি রক্ষায় তৎপর প্রশাসন। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিয়ে আলোচনায় ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ, ফের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি অনলাইন জুয়ায় দিশেহারা তরুণ সমাজ সর্বস্ব হারিয়ে ঋণের বোঝা, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও প্রতারণার ঝুঁকি সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ ত্যাগী ও কর্মহীন নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের দাবি তারেক রহমানের কাছে রংপুর মহানগর যুবদল নেতার খোলা চিঠি পরিচয় গোপন রেখে প্রতিদিন শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৪) ও ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী (১২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, দুইতলা বাড়ির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় সিঁড়িতে। আর ছেলে পিয়মের মরদেহ একটি কক্ষের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক। শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নিজ বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহে কাজ শুরু করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটনাটি ঘটতে পারে। প্রাথমিক আলামত দেখে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গামছা বা কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। একই সঙ্গে আসবাবপত্রের যেসব স্থানে স্বর্ণালংকার রাখা হতো, সেসব স্থান ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাকাতির ঘটনা কি না এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী—তা বিস্তারিত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে।

জনপ্রিয়

৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ

প্রকাশের সময় : ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৪) ও ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী (১২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, দুইতলা বাড়ির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় সিঁড়িতে। আর ছেলে পিয়মের মরদেহ একটি কক্ষের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক। শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নিজ বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহে কাজ শুরু করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটনাটি ঘটতে পারে। প্রাথমিক আলামত দেখে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গামছা বা কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। একই সঙ্গে আসবাবপত্রের যেসব স্থানে স্বর্ণালংকার রাখা হতো, সেসব স্থান ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাকাতির ঘটনা কি না এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী—তা বিস্তারিত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে।