, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধে রংপুরে বিআরটিএ’র সতর্কবার্তা বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে কুতুব উদ্দিনকে বেলায়েত হোসেন বাবুর ফুলেল শুভেচ্ছা ‎আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা এআই’র কাছে এই ৫ পরামর্শ চাইবেন না ‎ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করলেন এমপি ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানালেন রিয়াজ তুহিন স্লিপার বাস কতটা নিরাপদ, প্রশ্ন যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক মিজ ইসরাত জাহান

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে পারিবারিক বিরোধে সাংবাদিককে হুমকি, পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৫৭ পড়া হয়েছে

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 90?

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর | ৮ জুলাই ২০২৬

রংপুরে একজন পেশাদার সাংবাদিককে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোনে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গভীর রাতে অজ্ঞাত পরিচয় থেকে করা ওই ফোনকলে প্রশাসনিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ২০২৬ রাত ১১টা ১৮ মিনিটে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে কল আসে। কলকারী নিজেকে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর সাংবাদিকের ফুফু ও ফুফাতো বোনের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবসময় আইন মেনে চলার চেষ্টা করেন। তার দাবি, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিরোধের সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে একজন সাংবাদিককে মানসিকভাবে ভীত করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম বা কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানোর ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে আইনের শাসন ও জনআস্থার জন্যও ক্ষতিকর। যদি কেউ প্রকৃত কর্মকর্তা না হয়, তবে এটি সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহারের শামিল। আর যদি প্রকৃত পরিচয় দিয়েই এমন আচরণ করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ফোনালাপের রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, কলকারীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক মহলের মতে, একজন সাংবাদিককে তার পেশাগত পরিচয় বা ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়কে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ বা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাহস না পায়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধে রংপুরে বিআরটিএ’র সতর্কবার্তা

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে পারিবারিক বিরোধে সাংবাদিককে হুমকি, পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর | ৮ জুলাই ২০২৬

রংপুরে একজন পেশাদার সাংবাদিককে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোনে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গভীর রাতে অজ্ঞাত পরিচয় থেকে করা ওই ফোনকলে প্রশাসনিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ২০২৬ রাত ১১টা ১৮ মিনিটে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে কল আসে। কলকারী নিজেকে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর সাংবাদিকের ফুফু ও ফুফাতো বোনের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবসময় আইন মেনে চলার চেষ্টা করেন। তার দাবি, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিরোধের সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে একজন সাংবাদিককে মানসিকভাবে ভীত করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম বা কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানোর ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে আইনের শাসন ও জনআস্থার জন্যও ক্ষতিকর। যদি কেউ প্রকৃত কর্মকর্তা না হয়, তবে এটি সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহারের শামিল। আর যদি প্রকৃত পরিচয় দিয়েই এমন আচরণ করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ফোনালাপের রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, কলকারীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক মহলের মতে, একজন সাংবাদিককে তার পেশাগত পরিচয় বা ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়কে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ বা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাহস না পায়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।