, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধে রংপুরে বিআরটিএ’র সতর্কবার্তা বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে কুতুব উদ্দিনকে বেলায়েত হোসেন বাবুর ফুলেল শুভেচ্ছা ‎আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা এআই’র কাছে এই ৫ পরামর্শ চাইবেন না ‎ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করলেন এমপি ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানালেন রিয়াজ তুহিন স্লিপার বাস কতটা নিরাপদ, প্রশ্ন যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক মিজ ইসরাত জাহান

আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ সাংবাদিককে থানায় ঢোকার নির্দেশ, এসআই ক্লোজড

  • প্রকাশের সময় : ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৪১ পড়া হয়েছে

সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় ঢোকার নির্দেশ, পরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিকেলে তাকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় যান। তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

 

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন।

 

সাব্বিরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাদের সময় তাকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক থানায় যান। সেখানে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এসআই নিহার রঞ্জন।

 

কালবেলার ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি বলেন, প্রথমে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। পরে ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।

 

রেজওয়ান রনি বলেন, থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয় এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন এবং থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে পরিচয়ের জন্য রনি তার ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ করতে বলেন। এরপর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানার ভেতরের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল একেএম সুমন মিয়া বলেন, থানায় এসে এসআই নিহার রঞ্জনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে জানান আইডি কার্ড ছাড়া সাংবাদিকেরা থানার ভেতরে আসতে পারবেন না। এসময় তিনি আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন, ধুর! এখান থেকে যান তো।

 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদের বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধে রংপুরে বিআরটিএ’র সতর্কবার্তা

আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ সাংবাদিককে থানায় ঢোকার নির্দেশ, এসআই ক্লোজড

প্রকাশের সময় : ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় ঢোকার নির্দেশ, পরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিকেলে তাকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় যান। তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

 

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন।

 

সাব্বিরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাদের সময় তাকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক থানায় যান। সেখানে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এসআই নিহার রঞ্জন।

 

কালবেলার ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি বলেন, প্রথমে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। পরে ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।

 

রেজওয়ান রনি বলেন, থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয় এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন এবং থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে পরিচয়ের জন্য রনি তার ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ করতে বলেন। এরপর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানার ভেতরের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল একেএম সুমন মিয়া বলেন, থানায় এসে এসআই নিহার রঞ্জনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে জানান আইডি কার্ড ছাড়া সাংবাদিকেরা থানার ভেতরে আসতে পারবেন না। এসময় তিনি আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন, ধুর! এখান থেকে যান তো।

 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদের বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।