, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধে রংপুরে বিআরটিএ’র সতর্কবার্তা বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে কুতুব উদ্দিনকে বেলায়েত হোসেন বাবুর ফুলেল শুভেচ্ছা ‎আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা এআই’র কাছে এই ৫ পরামর্শ চাইবেন না ‎ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করলেন এমপি ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানালেন রিয়াজ তুহিন স্লিপার বাস কতটা নিরাপদ, প্রশ্ন যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক মিজ ইসরাত জাহান

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সবার, একক কোনো গোষ্ঠীর নয়: আরএমপি কমিশনার

  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৬২ পড়া হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও চেতনা কোনো একক গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র স্বত্ব হতে পারে না; বরং এটি সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগের ফল বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এই মহান চেতনাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

 

বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল, “জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জীবিত জুলাই যোদ্ধাদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে আরএমপি কমিশনার জুলাই বিপ্লবে আত্মদানকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত ১৩৫ জন শিশুসহ মোট ৮৩৪ জন বীর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এ সময় রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “গর্ভের শিশু, চার বছরের আহাদ কিংবা নারী শিশু রিয়া গোপের মতো নিষ্পাপ শিশুদের আত্মত্যাগ এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা ও ব্যাপকতাকে তুলে ধরেছে। তাঁদের আত্মদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কমিশনার বলেন, “আজ আমি পুলিশ কমিশনারের যে চেয়ারে বসে আছি, তার পেছনে সাধারণ মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাও রয়েছে। এই সম্মান কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বাস্তবিকভাবেই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

তিনি জানান, রংপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদ ও জুলাই যোদ্ধা পরিবারের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মেট্রোপলিটন পুলিশের আউটসোর্সিং নিয়োগে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে এসব পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আরএমপি কমিশনার বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্র সংগঠনগুলোকে কর্মসূচি পালনে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সহনশীল হতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকেও বিরত থাকতে হবে।”

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত রংপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রচারণার উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আন্তরিকভাবে জুলাই শহীদ ও যোদ্ধা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, বীর জুলাই যোদ্ধা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

অনুমোদনহীন স্লিপার বাস বন্ধে রংপুরে বিআরটিএ’র সতর্কবার্তা

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সবার, একক কোনো গোষ্ঠীর নয়: আরএমপি কমিশনার

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও চেতনা কোনো একক গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র স্বত্ব হতে পারে না; বরং এটি সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগের ফল বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এই মহান চেতনাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

 

বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল, “জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জীবিত জুলাই যোদ্ধাদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে আরএমপি কমিশনার জুলাই বিপ্লবে আত্মদানকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত ১৩৫ জন শিশুসহ মোট ৮৩৪ জন বীর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এ সময় রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “গর্ভের শিশু, চার বছরের আহাদ কিংবা নারী শিশু রিয়া গোপের মতো নিষ্পাপ শিশুদের আত্মত্যাগ এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা ও ব্যাপকতাকে তুলে ধরেছে। তাঁদের আত্মদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কমিশনার বলেন, “আজ আমি পুলিশ কমিশনারের যে চেয়ারে বসে আছি, তার পেছনে সাধারণ মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাও রয়েছে। এই সম্মান কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বাস্তবিকভাবেই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

তিনি জানান, রংপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদ ও জুলাই যোদ্ধা পরিবারের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মেট্রোপলিটন পুলিশের আউটসোর্সিং নিয়োগে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে এসব পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আরএমপি কমিশনার বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্র সংগঠনগুলোকে কর্মসূচি পালনে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সহনশীল হতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকেও বিরত থাকতে হবে।”

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত রংপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রচারণার উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আন্তরিকভাবে জুলাই শহীদ ও যোদ্ধা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, বীর জুলাই যোদ্ধা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।