, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রংপুর জেলা বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি রংপুর নগরীর ঠিাকাদার পাড়ায় ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের জায়গা নিয়ে ক্ষোভ, সম্প্রীতি রক্ষায় তৎপর প্রশাসন। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিয়ে আলোচনায় ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ, ফের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি অনলাইন জুয়ায় দিশেহারা তরুণ সমাজ সর্বস্ব হারিয়ে ঋণের বোঝা, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও প্রতারণার ঝুঁকি সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ ত্যাগী ও কর্মহীন নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের দাবি তারেক রহমানের কাছে রংপুর মহানগর যুবদল নেতার খোলা চিঠি পরিচয় গোপন রেখে প্রতিদিন শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

নারী সহ রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাটে আটক ওসি মাহবুব

  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৫ পড়া হয়েছে

রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানা এলাকার নাদের হাজির মোড় সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম মাহবুব আলম, যিনি চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে এক নারী দীর্ঘ সময় অবস্থান করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাঁর দাবি, ভেতরে তাঁর স্বামী রয়েছেন। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলে তাঁরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ফ্ল্যাট থেকে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের ওই নারীকে বের করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সময় বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে তাঁদের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তাঁর কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে সানজিদা মৌকে নিয়ে অবস্থান করছেন। এরপর শুক্রবার সকালে গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে সাড়া না পেয়ে ৯৯৯-এ কল দেন।

অন্যদিকে আটক হওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। সাবেক স্ত্রীর বিষয়ে মাহবুবের দাবি, তিনি আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও হস্তান্তর করেছেন। যদিও আন্নি জানিয়েছেন, তিনি কোনো তালাকের কাগজ হাতে পাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তিনি রাজশাহী গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে চন্দ্রিমা থানায় এনে পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ

নারী সহ রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাটে আটক ওসি মাহবুব

প্রকাশের সময় : ১০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানা এলাকার নাদের হাজির মোড় সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম মাহবুব আলম, যিনি চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে এক নারী দীর্ঘ সময় অবস্থান করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাঁর দাবি, ভেতরে তাঁর স্বামী রয়েছেন। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলে তাঁরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ফ্ল্যাট থেকে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের ওই নারীকে বের করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সময় বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে তাঁদের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তাঁর কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে সানজিদা মৌকে নিয়ে অবস্থান করছেন। এরপর শুক্রবার সকালে গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে সাড়া না পেয়ে ৯৯৯-এ কল দেন।

অন্যদিকে আটক হওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। সাবেক স্ত্রীর বিষয়ে মাহবুবের দাবি, তিনি আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও হস্তান্তর করেছেন। যদিও আন্নি জানিয়েছেন, তিনি কোনো তালাকের কাগজ হাতে পাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তিনি রাজশাহী গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে চন্দ্রিমা থানায় এনে পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।