
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, লাগেজ নিরাপত্তা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনায় আসা তরুণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদকে আবারও বিমানবন্দরের দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে অনেক যাত্রী ও প্রবাসী নওশাদের দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ তাকে বিমানবন্দরের ‘ফাটাকেষ্ট’ আখ্যা দিয়ে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা কে এম আবু নওশাদ ২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
দায়িত্ব পালনকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে জরিমানা এবং যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। ৫ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার তথ্যও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া লাগেজ হ্যান্ডলারদের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়াতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ, হেল্প ডেস্ক সক্রিয় করা এবং যাত্রীদের অভিযোগ সরাসরি জানানোর ব্যবস্থা করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
নওশাদের দায়িত্ব পালনের সময় বিমানবন্দরে অনিয়ম, দালালচক্র ও যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব পোস্টে থাকা সব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও নওশাদ আলোচনায় এসেছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানিয়েছেন। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে তার তৎপরতা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের লাগেজ নিরাপত্তা, দোকানে পণ্যের মূল্য, দালালদের তৎপরতা এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির দাবি দীর্ঘদিনের।
এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাদকে আবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। অনেকে বলছেন, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাত্রী হয়রানি ও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর, সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, বিমানবন্দর দেশের প্রবেশদ্বার। তাই দেশি-বিদেশি যাত্রী ও প্রবাসীদের নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।
তবে নওশাদকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।














