, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গত ১০ জুলাই থেকে নিখোঁজ আবেদা আক্তার – সন্ধান চায় পরিবার প্রবীণ সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম বাবলা আর নেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে পারিবারিক বিরোধে সাংবাদিককে হুমকি, পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রংপুর মহানগর স্বর্ণ শিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে টার্মিনাল মৎস্য আড়ত মার্কেটের নির্মাণাধীন ফাউন্ডেশন ঢালাই কাজের শুভ উদ্বোধন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা কামনা বিরোধীদলীয় নেতার দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু রংপুরে রাস্তা পাকাকরণ কাজের শুভ উদ্বোধন করলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ আগস্টের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে

বাদীর সহযোগিতায় পুলিশের অভিযান, হাতকড়া পরার আগেই উধাও আসামি

  • প্রকাশের সময় : ০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৬৫ পড়া হয়েছে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাদরাসাতুল ইতক্বান লি উলুমিল কুরআনের ছাত্র মুদ্দাসসিরের (৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘আত্মহত্যা’র উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে এই রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করে বরাবরই একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছে নিহতের পরিবার। গত ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ৯টায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানের সময় প্রধান আসামির পলায়ন এবং সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ঘটনার রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।

 

পুলিশের অভিযান ও আসামীর নাটকীয় পলায়ন:

গত ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ৯টায় বাদী নিহতের বাবা মো. জিয়াউর রহমানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় মামলার প্রধান আসামি ক্বারী আনিছুর রহমান মাদরাসায় অবস্থান করছেন এবং শবেবরাত ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১৫ তারিখ পর্যন্ত মাদরাসা ছুটি দিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইরফানের নেতৃত্বে পুলিশ মাদরাসায় পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় দুই ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষার পর পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করলে ৯ তলা ভবনের ছাদে আসামির ভেজা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়, যা থেকে পরিস্কার ধারণা করা হচ্ছে তিনি পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে পালিয়েছেন।

 

সিসিটিভির ফুটেজ ও অসহযোগিতার অভিযোগ:

তল্লাশির সময় তদন্ত কর্মকর্তা মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার চেষ্টা করা হলেও রহস্যজনক কারণে সিসিটিভি পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা অবস্থায়ভপাওয়া যায়। উপস্থিত শিক্ষকরা পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভির ডিভিআর জব্দ করার কথা বলেন। কিন্তু পরক্ষনে মাদরাসার অন্যান্য ছাত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তা আর জব্দ করা হয়নি।

 

ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক ও পরিবারের অবস্থান:

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও নিহতের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, “৮ বছরের একটি শিশু যে মাত্র দুই বছরে ৭ পারা কোরআন মুখস্থ করেছে, সে কেন আত্মহত্যা করবে? তাছাড়া তার গলায় আঁচড়ের দাগ ছিল, যা কোনো ভাবেই আত্মহত্যার চিহ্ন হতে পারে না।” পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বর্তমান অবস্থা:

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ ইরফানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখা, মাদরাসার অন্যান্য ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে কিছুটা সময় লেগে গেলেও, বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মামলার প্রধান আসামি ক্বারী আনিছুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং শনিবার আছরের নামাজের পর নিখোঁজ হয় মুদ্দাসসির। অনেক খোঁজাখুঁজির কয়েক ঘণ্টা পর মাদ্রাসা ভবনের একটি বাথরুম থেকে মুদ্দাসসিরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, নিহত মুদ্দাসসিরের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায়।

জনপ্রিয়

গত ১০ জুলাই থেকে নিখোঁজ আবেদা আক্তার – সন্ধান চায় পরিবার

বাদীর সহযোগিতায় পুলিশের অভিযান, হাতকড়া পরার আগেই উধাও আসামি

প্রকাশের সময় : ০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাদরাসাতুল ইতক্বান লি উলুমিল কুরআনের ছাত্র মুদ্দাসসিরের (৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘আত্মহত্যা’র উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে এই রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করে বরাবরই একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছে নিহতের পরিবার। গত ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ৯টায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানের সময় প্রধান আসামির পলায়ন এবং সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ঘটনার রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।

 

পুলিশের অভিযান ও আসামীর নাটকীয় পলায়ন:

গত ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ৯টায় বাদী নিহতের বাবা মো. জিয়াউর রহমানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় মামলার প্রধান আসামি ক্বারী আনিছুর রহমান মাদরাসায় অবস্থান করছেন এবং শবেবরাত ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১৫ তারিখ পর্যন্ত মাদরাসা ছুটি দিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইরফানের নেতৃত্বে পুলিশ মাদরাসায় পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় দুই ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষার পর পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করলে ৯ তলা ভবনের ছাদে আসামির ভেজা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়, যা থেকে পরিস্কার ধারণা করা হচ্ছে তিনি পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে পালিয়েছেন।

 

সিসিটিভির ফুটেজ ও অসহযোগিতার অভিযোগ:

তল্লাশির সময় তদন্ত কর্মকর্তা মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার চেষ্টা করা হলেও রহস্যজনক কারণে সিসিটিভি পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা অবস্থায়ভপাওয়া যায়। উপস্থিত শিক্ষকরা পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভির ডিভিআর জব্দ করার কথা বলেন। কিন্তু পরক্ষনে মাদরাসার অন্যান্য ছাত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তা আর জব্দ করা হয়নি।

 

ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক ও পরিবারের অবস্থান:

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও নিহতের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, “৮ বছরের একটি শিশু যে মাত্র দুই বছরে ৭ পারা কোরআন মুখস্থ করেছে, সে কেন আত্মহত্যা করবে? তাছাড়া তার গলায় আঁচড়ের দাগ ছিল, যা কোনো ভাবেই আত্মহত্যার চিহ্ন হতে পারে না।” পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বর্তমান অবস্থা:

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ ইরফানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখা, মাদরাসার অন্যান্য ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে কিছুটা সময় লেগে গেলেও, বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মামলার প্রধান আসামি ক্বারী আনিছুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং শনিবার আছরের নামাজের পর নিখোঁজ হয় মুদ্দাসসির। অনেক খোঁজাখুঁজির কয়েক ঘণ্টা পর মাদ্রাসা ভবনের একটি বাথরুম থেকে মুদ্দাসসিরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, নিহত মুদ্দাসসিরের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায়।