, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রংপুর জেলা বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি রংপুর নগরীর ঠিাকাদার পাড়ায় ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের জায়গা নিয়ে ক্ষোভ, সম্প্রীতি রক্ষায় তৎপর প্রশাসন। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিয়ে আলোচনায় ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ, ফের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি অনলাইন জুয়ায় দিশেহারা তরুণ সমাজ সর্বস্ব হারিয়ে ঋণের বোঝা, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও প্রতারণার ঝুঁকি সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ ত্যাগী ও কর্মহীন নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের দাবি তারেক রহমানের কাছে রংপুর মহানগর যুবদল নেতার খোলা চিঠি পরিচয় গোপন রেখে প্রতিদিন শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

অনলাইন জুয়ায় দিশেহারা তরুণ সমাজ সর্বস্ব হারিয়ে ঋণের বোঝা, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও প্রতারণার ঝুঁকি

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার ঘটছে অনলাইন জুয়ার। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন বেটিং সাইট, অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। দ্রুত ও সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত হারাচ্ছেন বিপুল অর্থ।

 

শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে খেলায় অংশ নিয়ে কেউ কেউ সামান্য লাভ পেলেও সেটিই পরবর্তীতে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় একের পর এক অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে পরিবার, শিক্ষা ও কর্মজীবনে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনলাইন জুয়ার প্রচারণা দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে বোনাস, নিশ্চিত লাভ কিংবা দ্রুত বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নতুন ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এসব প্রচারণার আড়ালে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি আসক্তি, মানসিক চাপ, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে। তরুণদের একটি অংশ বাস্তব কর্মসংস্থান ও পরিশ্রমের পরিবর্তে সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

 

সচেতন মহল মনে করছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নিলেই হবে না; একই সঙ্গে প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনের পথও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

 

অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি।

 

কারণ অনলাইন জুয়ার ফাঁদে একজন তরুণের অর্থ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি পরিবার। আর এমন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পুরো সমাজের ওপর।

জনপ্রিয়

৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ

অনলাইন জুয়ায় দিশেহারা তরুণ সমাজ সর্বস্ব হারিয়ে ঋণের বোঝা, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও প্রতারণার ঝুঁকি

প্রকাশের সময় : ১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার ঘটছে অনলাইন জুয়ার। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন বেটিং সাইট, অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। দ্রুত ও সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত হারাচ্ছেন বিপুল অর্থ।

 

শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে খেলায় অংশ নিয়ে কেউ কেউ সামান্য লাভ পেলেও সেটিই পরবর্তীতে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় একের পর এক অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে পরিবার, শিক্ষা ও কর্মজীবনে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনলাইন জুয়ার প্রচারণা দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে বোনাস, নিশ্চিত লাভ কিংবা দ্রুত বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নতুন ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এসব প্রচারণার আড়ালে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি আসক্তি, মানসিক চাপ, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে। তরুণদের একটি অংশ বাস্তব কর্মসংস্থান ও পরিশ্রমের পরিবর্তে সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

 

সচেতন মহল মনে করছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নিলেই হবে না; একই সঙ্গে প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনের পথও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

 

অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি।

 

কারণ অনলাইন জুয়ার ফাঁদে একজন তরুণের অর্থ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি পরিবার। আর এমন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পুরো সমাজের ওপর।