
রংপুর নগরীর ঠিকাদার পাড়া দুর্গা মন্দিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে এবং সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পূজা হয়ে আসা মন্দিরটির প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ করে ব্যক্তি মালিকানা দাবি করার ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে রংপুর বিভাগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) যৌথভাবে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা সহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার পক্ষে আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ রয়েছে। তবে আদালতের আদেশ থাকার পরও এখন পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের জায়গা ও কমিটির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা দূর করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন রংপুর বিভাগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু।
একই সাথে মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) সনাতন চক্রবর্তী। এছাড়া মন্দির এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনি জটিলতা নিরসনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বিশেষ সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।
সার্বিক বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্দির কমিটির সদস্য সৌরভ বলেন, “আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই জায়গায় আমাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছি। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। অথচ একটি পরিবার এখন এই জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করছে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ৩০-৪০ বছর ধরে তারা এই মন্দিরে নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে আসছেন। হঠাৎ করেই একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে যেন ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে ধর্মীয় উৎসব বাধাগ্রস্ত হয়। এই খবর ছড়ানোর পর স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে গভীর আঘাত লেগেছে। নেতৃবৃন্দের মতে, ধর্মীয় উৎসব পালন করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এ ধরনের বাধা দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা সতর্ক করে বলেন, এই অধিকারে কেউ বাধা দিলে তার উচিত জবাব দেওয়া হবে।
তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গা মন্দিরের জায়গা নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে যেন মন্দিরের সকল ধর্মীয় কার্যক্রম ও উৎসব সম্পন্ন হতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বেলায়েত হোসেন বাবু 









