দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দালালদের ধরতে র্যাব ও ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে।
শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও সিলগালা করা হচ্ছে। ভুয়া চিকিৎসক কিংবা সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশন করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে সময় লাগবে উল্লেখ করে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে। নতুন করে যুক্ত হওয়া শিশুদেরও টিকার আওতায় আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের হাওরাঞ্চলে এ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
পরিদর্শনের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।