রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। কী ঘটেছিল, তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডসংলগ্ন বিটিসিএল কার্যালয়ের দেয়াল টপকে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের সন্দেহে বিটিসিএল কর্মীরা ধাওয়া করলে একজনকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে আটক যুবককে বিটিসিএল ক্যাম্পের আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিটিসিএলের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সকালে অফিসে এসে তিনি জানতে পারেন, চুরি করতে আসা এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে আনসার ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। সেখানে মারধরের পর অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক অচেতন হয়ে পড়েন বলে তিনি দাবি করেন। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী ওই যুবককে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিহতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে আনসারের বক্তব্য ভিন্ন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুবককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকালে তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তার ভাণ্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক প্রবেশ করলে দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল একজনকে চুরি করতে দেখে ধাওয়া করেন। ওই যুবক পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর সময় চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান। পরে বিটিসিএলের স্টাফ শওকত হোসেন তাকে আটক করেন এবং আনসার সদস্যরা আটকে সহযোগিতা করেন।
আনসারের দাবি, প্লাটুন কমান্ডার নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পিও সুলতান মাহমুদ ও ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান। যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আনসার সদস্যদের নির্যাতন বা মারধরের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় প্লাটুন কমান্ডার নুরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেলেও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আছেন বলে জানানো হয়। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে গণমাধ্যমকে তিনি দাবি করেছেন, আনসার সদস্যদের পাশাপাশি বিটিসিএল কর্মীরাও ওই যুবককে মারধর করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের পরই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট হবে।