রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন পার্বতীপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক কিশোরীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরহুম
ফসিমুদ্দিন এর ওয়ারিশ সুত্রে ১একর ৩৭ শতক জমি কোকিলা বেগম ও সাফিয়া বেগম ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি গত ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার বাসিন্দা মনতাজ মিয়ার ছেলে সজীব ও হাবিব মিয়ার ছেলে রহিম মিয়া এবং মৃত খয়বার মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াসহ অভিযুক্ত ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে লাঠি, রড ও জিআই পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী গুরুতর আহত হয়, তার পায়ে আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন গুরুত্বর আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটায়। এক পর্যায়ে তারা ঘরের টিনের বেড়া ও চালা ভেঙে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং নগদ অর্থ ও টিন লুট করে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন প্রতিবেদককে জানান দীর্ঘ কয়েকযুগ
ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। তাদের প্রতিপক্ষের লোকজন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গোপনে অন্য লোকের কাছে জমি হস্তান্তর করেন। কথিত ওই ক্রেতা সহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের বসতবাড়িতে এই হামলা চালায়। ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, এঘটনায় থানায় কয়েক দফায় থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ প্রশাসন অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে উল্টো তাদের রোষানলে পড়ে অজ্ঞাত কারণে ঝিমিয়ে গেছে। এসময় তারা পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযুক্তরা এঘটনায় মুখ খুলতে অনিহা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছেন, এবং উভয়পক্ষের অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।