কেয়ামতের আলামত নিয়ে বাড়ছে আলোচনা, কী বলছে ইসলাম?
কেয়ামত কবে সংঘটিত হবে—এ জ্ঞান একমাত্র মহান আল্লাহর কাছেই। তবে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে কেয়ামতের আগে সংঘটিত হওয়া বিভিন্ন আলামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামি বর্ণনায় কেয়ামতের কিছু ছোট আলামত ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বলে আলেমরা উল্লেখ করে থাকেন। এর মধ্যে অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের বিস্তার, সুদ বৃদ্ধি, মিথ্যা ও প্রতারণার প্রসার, আমানতের খেয়ানত, অন্যায়-অবিচার এবং হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয়ের কথা হাদিসে এসেছে।
অন্যদিকে কেয়ামতের বড় আলামতগুলোর মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব, হজরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব, সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া, দাব্বাতুল আরদ ও ধোঁয়ার মতো বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, সংঘাত, দুর্যোগ, অপরাধ ও নানা অস্বাভাবিক ঘটনা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলোকে কেয়ামতের আলামত হিসেবে দাবি করছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট সমসাময়িক ঘটনাকে কেয়ামতের আলামত হিসেবে নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করার আগে কুরআন ও সহিহ হাদিসের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
মুসলিমদের জন্য কেয়ামতের আলামত জানার মূল উদ্দেশ্য আতঙ্কিত হওয়া নয়; বরং তওবা করা, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আমলকে শক্তিশালী করা।
কেয়ামতের সময় সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তাই গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে সহিহ জ্ঞান অনুসরণ করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।
বার্তা একটাই—কেয়ামত কখন আসবে তা আমরা জানি না, কিন্তু আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত প্রতিটি মুহূর্তে।